Business E-Commerce F-Commerce

ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম কি, এবং কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ!

“গোলাপকে তুমি যে নামেই ডাকো তা গন্ধ ছড়াবে,” নাম প্রসঙ্গে মহাকবী শেক্সপিয়ারের উক্তি ছিলো এটা। নামের সাথে বৈশিষ্ট্যের সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকলেও। একটা শিশু ভূমিষ্ট হবার পরেই তার নাম রাখা হয়। আর ঐ নামেই সে আজীবনের পরিচয় তৈরি করে। তার ভালো, খারাপ সবেতেই নাম জুড়ে থাকে।

ডোমেইন কিছুটা এরকমই কাজ করে, ইউনিক নাম এবং অ্যাড্রেস বা ঠিকানা মিলে হয় ডোমেইন। আপনি হয়তো সুন্দর করে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন কিন্তু যদি ডোমেইন নেম না থাকে তাহলে ভিজিটর সেখানে আসতে পারবে না। যদি ওয়েবসাইটের নাম এবং ঠিকানা না থাকে তাহলে সেখানে ভিজিটর আসবে কি করে?

আজকে জানবেন ব্র্যান্ড ডোমেইন কি, কত প্রকার এবং কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ!

ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম কি-

কোনো অনলাইন বিজনেস পরিচালনা করতে একটি ওয়েবসাইটের দরকার হয়। ওয়েব ডেভলপারের সাহায্য নিয়ে বা আপনি নিজেই সুন্দর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে এবং সাজাতে পারেন। কিন্তু ডোমেইন না থাকলে আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে বা ব্রাউজারে সার্চ দিয়ে পাওয়া যাবে না।

সহজ করে বললে ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের ইউনিক নাম এবং একটি অ্যাড্রেস। আপনি আপনার কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের প্রচারে নিজের একটি ওয়েবসাইট খুলে সেখানে নিজের অনলাইন বিজনেস শুরু করলেন, তখন আপনি আপনার ব্র্যান্ডের সাথে সম্পৃক্ত নাম দিয়ে যে ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করবেন তাই ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম। 

মূলত মানুষ এটিই সার্চ ইঞ্জিনের টাইপ করে বা ব্রাউজারে লিখে ওই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারে। প্রত্যেক ওয়েবসাইটের একটি আইপি থাকে, যে আইপি অ্যাড্রেস মনে রাখা সম্ভব হয় না। তাই সেই অ্যাড্রেস এর পরিবর্তে ডোমেইন নাম ব্যবহার করা হয়। 

একটি ডোমেইন সমগ্র বিশ্বে ঐ একটি নামেই চিহ্নিত হয়। আর কেউ সেই নামটি ব্যবহার করতে পারে না। অর্থাৎ একটি ডোমেইন এর জন্য একটি ইউনিক নাম এবং একটি আইপি বরাদ্দ থাকে।    

ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম কেনো গুরুত্বপূর্ণ?

ডোমেইন কি বা এর সঙ্গা থেকেই আমরা কিছুটা হলেও ধারণা পাই ডোমেইন কেনো গুরুত্বপূর্ণ। ডোমেইন ব্যবহার করা হয় ওয়েবসাইট বা  ব্লগে। এক্ষেত্রে যদি আপনার সাইটের ডোমেইন না থাকে তবে আপনার সাইটটি খুঁজেই পাওয়া যাবে না। 

“ডোমেইন ছাড়া আপনি কি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন না? ” প্রশ্নের উত্তরে হবে, হ্যাঁ! অবশ্যই পারবেন। কিন্তু আপনার তৈরি করা ওয়েবসাইট খুঁজে পেতে ভিজিটরদের আপনার ওয়েবসাইটের আইপি ব্রাউজারে সার্চ দিতে হবে।

172.217.168.238 এটি ছিলো গুগলের আইপি। আপনি যদি ব্রাউজারে গুগল লেখার পরিবর্তে এই কোড লিখে সার্চ দেন তাহলে সরাসরি গুগলের ওয়েবসাইটে পৌছে যাবেন। দেখুন তো কোডটি মনে রাখা সহজ নাকি গুগল? অথবা আপনাকে যদি প্রত্যেকদিন গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব এরকম অনেকগুলো ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হয়। তাহলে কি তাদের এরকম কোড ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বা তা কি সহজ  হতো আপনার জন্য? 

এছাড়াও একটি ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম যে যে কারণে ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা হলো   

  • ব্র্যান্ড ডোমেইন অদ্বিতীয় হয়ে থাকে – অর্থাৎ আপনার প্রতিযোগীরা এই নামের অনুরূপ নাম ব্যবহার করতে পারবে না।
  • সহজেই মনে রাখা যায় – যা অল্প কিছু শব্দ এবং খুব সহজ শব্দ নিয়ে গঠিত হয় বলে মনে রাখতে সহজ হয়।
  • ব্র্যান্ড ডোমেইনের সুনির্দিষ্ট অর্থ থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই – যেমন Google, YouTube। এগুলো প্রচলিত কোন শব্দ নয়, এবং এগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থ হয় না। কিন্তু বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ব্র্যান্ডের মধ্যে অন্যতম এগুলো রয়েছে।
  • উচ্চারণে সহজ – যেমন bKash, Nagad; উচ্চারণে খুব সহজ এবং এগুলো মাত্র ৫ অক্ষর বিশিষ্ট।
  • ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম ব্যবহার করলে তা বিশ্বাস করার মতো বা অনেক বেশি পজিটিভ শোনায়।

ডোমেইনের প্রকারভেদ

ডোমেইন কে অন্য বিষয়গুলোর মতো বিভক্ত করা যায় না। তবে ব্যবহারের দিক দিয়ে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।

  • TLD Domain- Top Level Domain. যেমন (.com) (.net) (.org) ইত্যাদি টপ লেভেল এক্সটেনশন দিয়ে গঠিত ডোমেইন হলো TLD Domain.
  • gTLD Domain- Generic Top Level Domain. (.com) (.net) (.org) ডোমেইন গুলো কোনো দেশকে ইন্ডিকেট করে না। এইরূপ ডোমেইন এক্সটেনশন যা কোনো দেশকে ইন্ডিকেট করে না তাই gTLD Domain.
  • ccTLD Domain- ডোমেইন যখন কোনো দেশকে ইন্ডিকেট করে তখন তাকে ccTLD Domain বা Country Code Top Level Domain বলে। যেমন (.bd) (.us) (.pk) ইত্যাদি, এখানে bd, us এবং pk দিয়ে বাংলাদেশ, আমেরিকার এবং পাকিস্তানকে নির্দেশ করে।   
  • SLD Domain- Sub Level Domain যে ডোমেইনে কোনো সাব ডোমেইন যুক্ত করা হয় তাকে SLD Domain বলে। www.blog.yourcompany.net ডোমেইনে blog একটি সাব ডোমেইন। 

ডটকম ডোমেইন এবং .com.bd ডোমেইনের পার্থক্য

ডটকম হচ্ছে একটি TLD Domain এর উদাহরণ। সমগ্র ডোমেইন সিস্টেমের একটি শীর্ষ স্তরের ডোমেন হলো TLD Domain. ডোমেইন মানেই আপনার ব্যবসা। বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত ডোমেইন এক্সটেনশান হলো .com। মূলত ১৯৮৫ সালে বানিজ্যিক প্রয়োজনে ব্যাবহার করতে এই ডোমেইন তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন বিজনেস প্রতিষ্ঠান এ ডোমেইন ব্যাবহার করে থাকে। এছাড়াও আরও অনেক TLD Domain রয়েছে। 

যেমন: .edu, .gov, .net, .org

আর .com.bd হলো বাংলাদেশের কান্ট্রি কোড ডোমেইন। বাংলাদেশের জন্য ইন্টারনেট প্রদত্ত ডোমেইন সাফিক্স এটি। বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বোর্ড এই ডোমেইন নিবন্ধন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড সরাসরি “.bd”-র অধীন কোনো ডোমেইন নিবন্ধন করে না। পৃথিবীর সব দেশেরই কান্ট্রি কোড ডোমেইন থাকে। 

যেমন: পাকিস্তানের জন্য .pk, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য .us, ভারতের জন্য .in, যুক্তরাজ্যের .uk.

ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশনের আগে যে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন-

ডোমেইন কেনার আগে কিছু বিষয় এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। সতর্কতা গুলো এরকম-

  • ডোমেইন রিনিউ- ডোমেইন কেনার আগে আপনি যে কোম্পানির থেকে ডোমেইন কিনবেন, তাদের রিনিউ সুবিধা কিরূপ তা জেনে নিবেন। ডোমেইন একেবারের জন্য কিনে নেওয়া যায় না। বছরে কিছু পরিমাণ টাকা দিয়ে আপনাকে পুনরায় ডোমেইন রিনিউ করে নিতে হয়। তাই ডোমেইন কেনার আগে জেনে নিবেন রিনিউ করার জন্য কোম্পানি আপনার থেকে কত টাকা নিবে। যাতে পরবর্তীতে আপনার থেকে কোম্পানি অধিক পরিমাণ টাকা দাবি না করে বা আপনাকে ডোমেইনের মালিকানা হারাতে না হয়।
  • ডোমেইন ট্রেডমার্ক- কেনার আগে আপনার ডোমেইন ট্রেডমার্ক কিনা তা মাথায় রাখা সর্বাধিক  গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ডোমেইনটি ট্রেডমার্ক যুক্ত না হয় সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। একটি ট্রেডমার্ক যুক্ত ডোমেইন কিনলে আপনার জেল জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। ট্রেডমার্ক ডোমেইন কি? 

আপনি নিশ্চয় জানেন একই নামে দুইটা ডোমেইন হয় না। তাই একটি পপুলার ডোমেইন ধরা যাক google.com এর মতো একটি ডোমেইন googlebd.com আপনি কিনতে চাইলে আপনি কিনতে পারবেন। কিন্তু এই ডোমেইন হবে ট্রেডমার্ক ডোমেইন। তখন google আপনার নামে মামলা পর্যন্ত করতে পারে। এতে আপনাকে জরিমানা বা জেল খাটতে হতে পারে।

  • ডোমেইন সিকিউরিটি- সিকিউরিটি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। আপনি এক দুই দিনের জন্য ডোমেইন কিনছেন না। এটি বছরের পর বছর ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়েই নিশ্চয় কিনবেন। তাই যাদের থেকে ডোমেইন কিনবেন তারা যেনো ডোমেইন সংক্রান্ত সকল সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতে পারে সে দিকে সতর্ক থাকবেন।
  • ডোমেইন ট্রান্সফার- হতে পারে আপনি একটি কোম্পানির থেকে ডোমেইন কিনলেন তাদের পরবর্তীতে আর ভালো লাগছে না। তাই এমন কোম্পানির থেকে ডোমেইন কিনবেন যারা আপনার ডোমেইন অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার করার সুযোগ দিবে। অধিক লাভের আশায় কোম্পানি গুলো ডোমেইন ট্রান্সফার করার সুযোগ দিতে চায় না। এরকম কোনো কোম্পানি থেকে ডোমেইন কিনবেন না৷     

এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে ডোমেইন কিনবেন। তাছাড়া আপনি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ডোমেইন কিনছেন সেটিও আপনাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশনের প্রসেসিং গুলো কি কি-

আপনি আপনার পছন্দের ডোমেইনটি যে কোনো মাধ্যম থেকেই কিনতে পারেন। তবে সার্ভিস, মূল্য এবং সুবিধা অসুবিধার ব্যাপারগুলো যেরকমটি বলেছি ওরকম হতে হবে। নাহলে আপনি প্রতারিত হতে পারেন, আর শুরুতেই অনলাইন পণ্যের প্রতি আপনার খারাপ অভিজ্ঞতা এবং অরুচি তৈরি হবে। 

আপনি যেখান থেকেই ডোমেইন কিনেন না কেন, প্রসেসিং প্রায় একই হয়। অর্থাৎ আপনাকে প্রথমে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইন নেম ঠিক করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে খুব সহজ অল্প অক্ষর ব্যবহার এবং নম্বর হাইফেন এগুলো ব্যবহার এড়িয়ে আপনার ব্রান্ডের সাথে মিল রেখে নামটি নির্বাচন করবেন। 

তারপর আপনার বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে যেতে হবে যারা ডোমেইন বিক্রি করে। ওয়েবসাইটে গেলে আপনি একটি সার্চ বক্স পাবেন, সেখানে আপনি যে ডোমেইন কিনতে চান সেটি লিখে সার্চ দিবেন। এটি মূলত আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইন এভেলেবল কিনা তা জানার জন্য। পূর্বেই যদি ঐ নামে কোনো ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করা হয় তাহলে আপনি আর ডোমেইনটি নিতে পারবেন না। কারণ আগেই বলেছি একটা ডোমেইন একবারই কেনা যায়। 

আপনি যদি ডোমেইন এভেলেবল পান তবে আপনি ডোমেইনটি বুকিং করবেন। তারপর টাকা পেমেন্ট করলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইনটি পেয়ে যাবেন। আপনি চাইলে হোস্টিংও নিয়ে নিতে পারবেন।  

শেষ কথা

যত দ্রুত অনলাইন পরিসেবা গুলো প্রাণ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরছে। মানুষকে সফল, সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনধারাকে সহজ করছে। ঠিক ততোটাই সুযোগ সন্ধানীরা প্রতারণার নতুন নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। মানুষ বিভিন্নভাবে অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এখানে যেমন সবাই ভালো না, ঠিক তেমন সবাই প্রতারকও নয়। আপনাকে শুধু সঠিক নির্বাচন করতে হবে। খারাপের মধ্যে থেকে ভালোটাকে বেঁছে বের করতে হবে আপনাকেই। আজকের ব্লগে আলোচনা করেছি ব্র্যান্ড ডোমেইন নেম কি, এবং কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ!

ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশনের বিষয়ে কোনো প্রকার জিজ্ঞাসা বা সহায়তার প্রয়োজনে Zovogeeks এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

www.zovogeeks.com

আমাদের হেল্পলাইনঃ +8809696791592 ( 10 AM to 11:30 PM)

আমাদের ফেসবুক মেসেজ হেল্পলাইনঃ m.me/Zovogeeks, m.me/Zovocare

আমাদের ই-মেইল হেল্পলাইনঃ 

zovocare@gmail.com,  zovogeeks@gmail.com, support@zovogeeks.com

Author

ZovoGeeks

Leave a comment

Your email address will not be published.